কাশ্মীরে জি-২০ প্রস্তুতি বৈঠক বর্জন, চীন-পাকিস্তানের কলকাঠি!
সম্প্রতি শেষ হওয়া ভারতের কাশ্মীরে জি-২০ দেশগুলোর প্রস্তুতি বৈঠক কতটুকু সফল হলো তা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সেপ্টেম্বরে দেশটিতে অনুষ্ঠেয় জোটের শীর্ষ সম্মেলনের আগে এই বৈঠকে যোগ দেয়নি চীন, তুরস্ক, মিশর ও সৌদি আরব। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকে অনেক দেশ অংশ না নেয়ার পেছনে কলকাঠি নেড়েছে চীন ও পাকিস্তান।
ছবি: সংগৃহীত
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক ভারত। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্ব নেতারা যোগ দেবেন। সেটা সফল করতেই কাশ্মীরে ঘটা করে প্রস্তুতি বৈঠক। স্বাগতিকদের দাবি,পর্যটনকে তুলে ধরতেই বেছে নেয়া হয় ভূস্বর্গ বলে পরিচিত কাশ্মীরকে। তাই জম্মু-কাশ্মীরের উন্নয়ন দেখাতে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে মোদি সরকার।
অন্যদিকে বৈঠকে যোগ দেয়া নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। ২২ থেকে ২৪ মে পর্যন্ত কাশ্মীরের শ্রীনগরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ না নেয়ার কথা আগেই জানিয়ে দেয় চীন। এরপর একে একে সেই তালিকায় যুক্ত হয় তুরস্ক, সৌদিআরব। আর আমন্ত্রিত অতিথি হয়েও এতে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকে মিশর। এমনকি বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ শুধুমাত্র ভারতে অবস্থানরত তাদের কূটনীতিকদের সম্মেলনে পাঠায়।
আরও পড়ুন: কাশ্মীরের অনুষ্ঠিত জি২০ বৈঠক বয়কট করবে চীন
প্রশ্ন উঠেছে, চারটি দেশ যোগ না দেয়ার পেছনে কারণ কি পাকিস্তান? বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, এ সম্মেলন ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক শুরু থেকেই। পাকিস্তান সবসময় চেয়েছে বিতর্কিত কাশ্মীরে যাতে জি–২০ সম্মেলন অনুষ্ঠিত না হয়। সে জন্য তারা চীন, তুরস্ক, সৌদি আরব, মিশরসহ বিভিন্ন দেশকে প্রভাবিত করেছে। আজাদ কাশ্মীরে সম্মেলন বিরোধী বিক্ষোভও হয়েছে। চলতি মাসে ভারতে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) সম্মেলনে এসে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিও এ নিয়ে সরব হয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যে তারা কিছুটা সফলও।
অন্যদিকে, এর পেছনে চীনেরও হাত থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে। এর আগে অরুণাচলের বৈঠকেও যোগ দেয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল চীন। তাই বেইজিং তার মিত্রদের এই বৈঠকে অংশ নিতে নিষেধ করতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
আরও পড়ুন: জি-২০ সম্মেলনের ভেন্যু নিয়ে অস্বস্তিতে ভারত
আবার বিতর্কিত কাশ্মীরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণেও অনেক দেশ প্রতিনিধি না পাঠিয়ে দিল্লিতে অবস্থানরত কূটনীতিকদের পাঠায় বলে জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।
যদিও দিল্লির বক্তব্য, কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। নিজের দেশের যেকোনো স্থানে সম্মেলন করার অধিকার তাদের রয়েছে। এমনকি এই বৈঠক ঘিরে উপত্যকাটিতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা নেয়া হয়েছিল বলেও তুলে ধরা হয়।
২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ ক্ষমতা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। বাতিল করা হয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ। তারপর এই প্রথম কাশ্মীরে কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো।
Tag: English News Featured world
No comments: